বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১

মায়ের ভাষাই মাতৃভাষা: রক্তঋণে আবদ্ধ আমাদের বাংলা ভাষা

- বিজ্ঞাপন -

মা মাটি মানুষ। যেখান থেকে এলাম-তিনিই মা; যেখানে আছি তাহাই মাটি বা মাতৃভূমি বা দেশ আর যাদের মাঝে আছি তারাই মানুষ যাদের নিয়েই সমাজ বলেই আমরা জানি এবং বুঝি।

মানুষ মহান রাব্বুল আল-আমীন এঁর অগণিত সৃষ্টির সেরা জীব। এই মানুষকে জানার, বুঝার বা চিনার যে ভাববোধ বা জ্ঞাণবোধ মনে জাগরিত হয় এবং মানুষের মনে জাগরিত এই ভাববোধ বা জ্ঞাণবোধ প্রকাশের মাধ্যম ধ্বনি বা আওয়াজই হলো ভাষা যা মমতাময়ী মা’য়ের শিখানো মতে মা’কেই প্রথম যে ধ্বনি বা আওয়াজ করে “মা” বলে ডাকি, সেই থেকেই শুরু হলো আমার আপনার বা আমাদের উচ্ছারিত ধ্বনি বা কথা বলা– যা জীবন প্রবাহে চলমান থাকায় কারণেই আমরা একে অপরকে জানা বা বুঝার চেষ্টা করি, পরস্পরকে পারস্পরিক বন্ধনে আবদ্ধ করি।

- বিজ্ঞাপন -

আমরা আমাদের সমাজে বসবাসরত পরস্পরের মাঝে উচ্ছারিত ধ্বনি বা যে ভাষায় আমরা পরস্পরের সাথে মনের ভাব বিনিময় বা উচ্ছারিত ধ্বনির আদান-প্রদান করি বা মনের ভাব প্রকাশ করি বা কথা বলি তাহা মায়ের শিখানো ভাষা বা মাতৃভাষা। মাতৃভাষা শব্দের সরল অর্থ হলো মায়ের ভাষা।

মাতৃভাষা শিক্ষা ও বিকাশের অকুন্ঠ সমর্থনেমহন আল্লাহ’র বাণী সহজ সুন্দর, সাবলীল ও পরিস্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য মানবকুলের জাতিভেদে সংশ্লিষ্ট জাতির ভাষাভাষী করে রাসুলদের প্রত্যেককে এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মহান পবিত্র কোরআন-এর সুরা ইব্রাহিম-এর ৪নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, আমি প্রত্যেক রাসুলকেই তার স্বজাতি ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, তাদের কাছে পরিস্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য- এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

- বিজ্ঞাপন -

আমরা জন্মসুত্রেই নিজেদের বাঙ্গালী জাতি হিসেবে জানি, বুঝি এবং গর্ববোধ করি, আমাদের ভাষা মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা- বাংলা আমাদের মাতৃভাষা , বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি, মাতৃভূমি। আমাদের বাঙ্গালী জাতির মনোভাব প্রকাশের মাধ্যম বাংলা ভাষা– হাজার হাজার বছরের লালিত এই বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতি স্বপ্ন দেখে, আশায় পথ চলে স্বর্ণোজ্জ্বল আগামীর। প্রাচীন যুগ থেকেই এ মাটিতে বেড়ে উঠা কবি সাহিত্যকগন রচনা করে আসছেন দেশ ও জাতির সাহিত্য, সংস্কৃতি ঐতিহ্যসমৃদ্ধ চিরায়ত বাংলার লোক ঐতিহ্য ও ইতিহাসের নানা কাহিনী।



মহান রাব্বুল আল-আমীন তাঁর সৃষ্টির সেরা জীব মানবজাতিকে সৃষ্টির পর মানবজাতি বিভিন্ন শ্রেণী, গোত্র ও সম্প্রদায়ে বিভক্ত হলেও তাদের দান করেছেন বৈচিত্রময় ভাষা এবং বর্ণ। নভোমণ্ডল ও ভূমন্ডলে সৃজন এবং ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য হলো মাহান আল্লা’র আরেক নিদর্শন (সুরা রুম-২১) যাতে অবশ্যই জ্ঞাণীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। মহান আল্লাহ তাঁর হেদায়েত প্রাপ্ত সকল নবী রাসুলকেই তাদের মাতৃভাষা দিয়ে পাঠিয়েছেন। পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তায়লা’র অগণিত নিয়ামতের একটি হলো মাতৃভাষা।

মানব জাতির আদি ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর মানব সৃষ্টি কোলের প্রত্যেক জাতি জাতির স্বীয় মাতৃভাষাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়েছেন এবং মহান রাব্বুল আল-আমীন মানব সৃষ্টির পর স্বস্ব জাতির নিজস্ব ভাষায় আসমানী কিতাবসমুহ অবতীর্ণ করেছেন। হযরত মুসা (আঃ) এর সম্প্রদায়ের ভাষা ছিল হিব্রু, তাই মহান সৃষ্টিকর্তা সেই হিব্রু ভাষায় তাঁর উপর তাওরাত নাযিল করেছেন। হযরত দাউদ (আঃ) এর সম্প্রদায়ের ভাষা ছিল ইউনানি ছিল বলেই সে অনুসারেই ইউনানি ভাষায় তাঁর উপর যবুর নাযিল করেছেন। হযরত ঈশা (আঃ) এর সম্প্রদায়ের ভাষা ছিল সুবিয়ানি তাই মহান সৃষ্টিকর্তা তা্র উপর সেই সুবিয়ানি ভাষায় আসমানি কিতাব ইনজিল নাযিল করেন।



আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর সম্প্রদায়ের ভাষা ছিল আরবী তাই মহান রাব্বুল আল-আমীন তাঁর উপর আরবী ভাষায় পবিত্র কোরআন নাযিল করেন। মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) এবং বিবি হাওয়া (আঃ) জান্নাত থেকে দুনিয়ায় আসার পর সর্বপ্রথম আরবী ভাষায় কথা বলতেন এবং তাঁর সন্তানেরাও আরবী ভাষায় কথা বলতেন—- সেই হিসাবে আরবী হলো মানব জাতির সর্ব প্রথম মাতৃভাষা ছিল আরবী।

মানবজীবনের জীবনের চাল-চলন, আচার-আচরণসহ সৌন্দর্য্য বিকাশের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তার মাতৃভাষা। যাী মাধ্যমে বিকশিত হয় ব্যক্তির ব্যাক্তিত্ব বিকাশ বা জাতিস্বত্বা বিকাশের শোভা ও সৌরভ। কোন জাতির ব্যাক্তিগত বা জাতি গত ধ্বনি বা শব্দ বা বাক্য তার জাতির রুচি বা বোধ বা চিন্তা চেতনার পরিচায়ক বা স্বারক মর্মে পরিলক্ষিত হয়। এই ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা বা আমাদের মাতৃভাষায় কথামালার ধরণ, বাচনভঙ্গী পৃথিবীর অন্যান্য ভাষার চেয়ে অনেক অনেক বেশী শ্রুতিমধুর এবং আকৃষ্টকর ও আকর্ষণীয়।



কোন রাষ্ট্রযন্ত্র কতৃক কোন জাতির মাতৃভাষার উপর অন্য কোন ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অন্যায় বা শক্তি প্রয়োগ করে মাতৃভাষা পরিবর্তন করা সম্ভব না বা মাতৃভাষা কেড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা করাও ঠিক না, চরম অন্যায়। এহেন অপশক্তি প্রয়োগ কেবলই জাতিগত প্রতিবাদ বা প্রতিরোধকেই আমন্ত্রিত করে এবং শাসকগোষ্ঠীর এহেন অপশক্তির সকল প্রচেষ্টাকেই ভূলুণ্ঠিত করে। বাঙালি জাতির প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষা বাংলাভাষার উপর এমনই এক চরম আঘাত এসেছিল, রাষ্ষ্ট্রযন্ত্রের অপশক্তির চরম অপ্রয়োগ করা হয়েছিল ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগের পর তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। আমাদের মাতৃভাষা বাংলাভাষাকে কেড়ে নিয়ে সংখ্যালঘিস্টদের ভাষা উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রযন্ত্রের ক্ষমতাবলে জোরপূর্বক আমাদের উপর চপিয়ে দিতে চেয়েছিল তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কিন্তু রক্তঝরা আন্দোলনের মূখে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সকল অন্যায় ও অসৎ উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছিল।

১৭৫৭ এ দেশ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর দখলে চলে যায় বাঙালি জাতির প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলা ভাষাভাসীর আবাসভূমি।তারপর প্রায় দু’শ বছর বৃটিশ শাসনের বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে ১৯৪৭ সালে ভাষা ও সংস্কৃতি বেদে দেশবিভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান ও হিন্দুস্থান সৃষ্টিতেই এ বর্বরশাসনের পরিসমাপ্তি হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্ট পাঁচটি প্রদেশ নিয়ে পাকিস্তান নামক একটি রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।



পৃথিবীর ইতিহাসে হাজার মাইল ব্যবধানে থাকা বাঙালি জাতির আবাসভূমি পূর্ব পাকিস্তান পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের একমাত্র প্রদেশ। এর ভাষা, সাহিত্য সংস্কৃতি একেবারেই পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আলাদা। কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ ছাড়া এ প্রদেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের সাথে তাদের সম্পর্ক খুবই অল্প, চাল-চলন, আচার-আচরণ, কথা-বার্তা, চলা-ফেরাসহ সকল প্রকার সামাজিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপক গড়মিল রয়েছে জানা সত্বেও তদানিন্তন পাকিস্তানের জনক কায়দে আষম মোহম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে খুব সহজেই বলে ফেললেন—-পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হবে কেবলই উর্দূ– URDU, URDU and URDU will be state language of PAKISTAN — এ কথা বলা মাত্রই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙ্গালী ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাভাবিক উত্তর ছিল না —NO NO and NO এবং ” রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই” — শ্লোগানে নেমে আসে রাজপথে, মিছিল আর শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয় রাজপথ। বাংলার ছাত্রসমাজ কেবল No বা না বলেই থামেনি ১৯৪৮ হতে ১৯৫১– এই চার বছর প্রতি ১১ মার্চ তারা পালন করে ” রাষ্টভাষা দিবস।

১৯৫২ সালের জানুয়ারীতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন পূণর্বার রাষ্ট্রভাষা উর্দুর পক্ষে ঘোষণা দিলে পূর্বপাকিস্তানে(পূর্ব বাংলা) আগুন জ্বলে উঠে এবং শুরু হয় প্রতিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন। ৪ঠা ফেব্রুয়ারী ছাত্রসমাজের পতাকা দিবস পালনের মাধ্যমে বাংলার ছাত্রসমাজ পাকিস্তান সরকারকে তাদের সামর্থ্যের কথা জানান দেয় এবং ২১শে ফেব্রুয়ারী সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ সারা পূর্ব বাংলায় সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়, অপরদিকে মুসলীম লীগ সমর্থিত সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে সকল মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।



এতে ছাত্রসমাজ আরো ক্ষিপ্ত ও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসুচি অনুযায়ী সেদিন অর্থাৎ ফেব্রুয়ারীর ২১ তারিখ সকাল থেকে মিছিলের পর মিছিল আসতে থাকে। কড়া পুলিশি প্রহরা মোকাবেলা করে ১৪৪ ধারা ভাঙ্গতে উদ্যত হয় ছাত্র সমাজ, ছাত্রীরাও এতে সাহসী ভুমিকা নিয়ে এগিয়ে আসে।

ছাত্র ছাত্রীদের সাথে হোটেলের বয় বেয়ারা পথচারী রিক্সাওয়ালাও পর্যন্ত এতে যোগ দেয়। শাসকচক্র সেদিন রাস্থার মোড়ে মোড়ে ঘাঁটি স্থাপন করে। কাঁটাতারের বেড়ার ব্যারিকেড ভেঙ্গে ছাত্ররা প্রাদেশিক পরিষদ ভবনের দিকে অগ্রসর হতে থাকাবস্থায় প্রাদেশিক (বর্তমান জগন্নাথ হল ছিল তখনকার প্রাদেশিক পরিষদ ভবন) পরিষদ ভবনের দিকে যেতেই পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়, এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে, আন্দোলনকারীদের রক্তে রাজপথ রজ্ঞিত হয়। পৃথিবীইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য এই প্রথম রাজপথে আন্দোলন এবং রক্তপাত। এ আন্দোলনে শহীদ হয় বাংলামায়ের অকুতভয় বীর সন্তান রফিক-শফিক- জব্বার-সালাম-বরকত নিহত হয়। বাঙ্গালীর বুকের তাজা রক্তে ধোয়া আমাদের প্রাণপ্রিয় বর্ণমালা– রক্তঋণে আবদ্ধ আমাদের মাতৃভাষা — বাংলাভাষা।

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের তীব্রতায় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাদের স্বৈরাচারী মনোভাব থেকে পিছু হটে, সকল শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আমাদের মুখের ভাষা, মাতৃভাষা, বাংলাভাষাকে রক্ষা করতে সক্ষম হই।
এবং সেই থেকেই বাঙ্গালী জাতি প্রতি বছরই ২১শে ফেব্রুয়ারিকে মহান ভাষা দিবস বা শহীদ দিবস হিসেবে যথাযথ মর্যাদায় পালন আসছে। প্রতি বছরই ২১শে ফেব্রুয়ারি’র কর্মসূচির প্রভাতফেরিতে রাজপথে প্রতিধ্বনিত হয় –



“আমার ভায়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি — আমরা কি ভূলিতে পারি”—- আমরা প্রভাতফেরি শেষে শহীদমিনার পুষ্পস্তবক অর্পন করি এবং আলোচনাসভা ও শহীদদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করেই দিনের কর্মসূচি পালন করি। আমরা উদ্বেলিত এবং কৃতজ্ঞ যে, ২১ শে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস বা মহান মাতমভাষা দিবস আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত—- ২১ শে ফেব্রুয়ারির এই দিনটি প্রতি বছরই সারা বিশ্বে ” আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস”- হিসেবে পালিত হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমরা কি পারছি, মাতৃভাষা’র জন্য শহীদদের আত্নত্যাগ সঠিক মূল্যায়ন করতে বা সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে বা সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনে নিশ্চিত করতে।

ভাষা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট এথোনলগের ২০২০ সালের ২২তম সংস্করণের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, পৃথিবীজুরে মোট বাংলাভাষীর সংখ্যা ২৬ কোটি ৫০ লাখের উপরে। আবার ভাষা গবেষকদের হিসেবে বিশ্বজুড়ে বাংলাভাষীর সংখ্যা ২৮ কোটির উপরে। ২০২০ সালে প্রকাশিত ঢাকা টাইমস-এর এক ফিচার প্রতিবেদনে জানা যায় — ২০৫০ সালে বাংলাভাষীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৩১ কোটি ৬০ লাখ- এটা পরিসংখ্যানবিদদের হিসাব। তবে এসব হিসাবকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির নানা তত্ব ও সর্বশেষ তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে চিন্তা করলে দেখা যেতে পারে যে, গত এক’শ বছরে বাঙ্গালীর সংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি হওয়ার কথা ছিল তা কিন্তু হয়ে উঠেনি।



এতদ্বসত্বেও আমরা সর্বস্থরে বাংলা প্রচলনে ব্যর্থ বলেই ১৯৮৭ সনে সরকার সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের জন্য আমাদের দেশে আইন প্রণীত হয়। আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের সরকারি অফিস-আদালতসহ সর্বত্রই বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে হবে অর্থাৎ সকল প্রকার আবেদন নিবেদন বাংলায় লিখতে হবে, অন্য কোন ভাষার ব্যবহার বেআইনী ও অকার্যকর বলে গণ্য হওয়ার কথা থাকলেও আমরা কি এই আইনের সঠিক প্রয়োগ দেখতে পাচ্ছি।

শহীদদের রক্তে ধোঁয়া প্রাণের বর্ণমালা, রক্তঋণে আবদ্ধ আমাদের মাতৃভাষা বাংলাভাষা’র মর্যাদা প্রদান যেন শহীদ দিবস বা একুশে ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীক বা ফেব্রুয়ারি মাস কেন্দ্রিক না হয় তা সচেনতার সাথে খেয়াল রাখা দায়িত্ব এবং কর্তব্য। আজকের এই দিনে আমাদের শপথ হউক আমরা সবাই যেন সর্বক্ষেত্রে শহীদের রক্তে ধোঁয়া বর্ণমালা ব্যবহার করি এবং সর্বস্তরে বাংলা প্রচলন নিশ্চিত করি।

লেখক: এ্যাডভোকেট আব্দুল হান্নান রঞ্জন সহ-সভাপতি, নেত্রকোণা প্রেস ক্লাব। নেত্রকোণা।

আরো পড়ুনঃ টু‌ঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা

- বিজ্ঞাপন -
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

দুর্গাপুরে ছিনতাইয়ের সময় পিস্তলসহ আটক দুই

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে ছিনতাইয়ের সময় বিদেশি পিস্তলসহ সুবেস চিসিম (৩০) ও পেলেষ্টার দারিং (২৪) নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) উপজেলার বিরিশিরি এলাকা...

মদনে আহত ব্যবসায়ীর মৃত্যু : থানায় মামলা দায়ের

নেত্রকোণার মদনে আহত ব্যবসায়ী হেকিম মিয়া(৫৮) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) রাতে মারা গেছেন। এ ঘটনায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা...

স্ত্রীর সফল অস্ত্রোপচার, হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে স্বামীর ব্র‏‏হ্মপুত্রে ঝাঁপ

স্ত্রীর সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে। এরপর স্ত্রীকে রেখে বাড়ি যাচ্ছেন বলে হাসপাতালে থেকে বেরিয়ে যান নূরুল আমীন ওরফে শুক্কুর আলী (৫৫)। কিন্তু...

মদনে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ২৫

আবাদ করা বোরো জমি দখলকে কেন্দ্র করে নেত্রকোণার মদনে দু'পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) মদন উপজেলার মদন...

মদনে সংঘর্ষে কালাচান মিয়া নিহতের ঘটনায় বাড়িঘর ভাংচুর

নেত্রকোনার মদনে জমি নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে কালাচান মিয়া নিহতের ঘটনায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনাটি ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার দক্ষিণ পাড়া গ্রামে এই ঘরবাড়ি...

দুর্গাপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের উপর হামলা, পুলিশসহ আহত ৬

দুর্গাপুর প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর ১নং বালুঘাট থেকে বাংলা ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উঠানোর সময় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করার সময় হামলা করে বালু ব্যবসায়ীরা।...

নেত্রকোনার বারহাট্টায় ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত তিন

জনপ্রিয় ডেস্কঃ নেত্রকোনার বারহাট্টায় ট্রেনে কাটা পড়ে সহোদর দুই ভাইসহ তিনজন নিহত হয়েছে। আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভোর রাত ৪টার দিকে উপজেলার স্বল্প দশাল এলাকায়...

নেত্রকোনায় ট্রাক ও অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২, আহত ৩

জনপ্রিয় ডেস্কঃ নেত্রকোনায় ট্রাক ও অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। এসময় দুই নারীসহ ৩ জন অটোরিকশা যাত্রী আহত হয়। আহতদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে...
x