থাকছে না রাশেদ জুয়েলের নেতৃত্ব : আসছে ছাত্রদলে নতুন কমিটি!

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন হলো ছাত্রদল। চূড়ান্ত আন্দোলন সময়ে বিএনপির ভ্যানগার্ড-খ্যাত ছাত্রদলের নেতৃত্বে দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও সফল হয়নি বিএনপির এক দফার আন্দোলন।

অতীতে স্বৈরাচার এরশাদের পতনসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্রদল সংগঠনটি অন্যতম শক্তি হিসেবে থাকলেও সরকার পতনে কিংবা খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে কোনো ভূমিকাই দেখাতে পারেনি।

দলটির সিনিয়র নেতারা বলছেন, বর্তমান কমিটিতে সিন্ডিকেট, আঞ্চলিকতা গুরুত্ব পাওয়ায় আন্দোলনের উপযুক্ত সময়ে যোগ্য নেতারা ভূমিকা দেখাতে পারেনি।

তবে ২৮ অক্টোবরের আগে পরে মাত্র কয়েকজনকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজপথে দেখা গেছে। জ্যেষ্ঠ নেতাদের ভাষ্য, ছাত্রদলের অতীত গৌরব এখন অনেকটাই ম্লান। সারা দেশে ছাত্রদলের জেলার মর্যাদাসম্পন্ন শাখার সংখ্যা ১১৮টি। এর প্রায় অর্ধেক কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ।

কমিটি থাকলেও ছাত্ররাজনীতির প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনেকটা অস্তিত্ব সংকটে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের অবস্থান এখন অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। নেতৃত্বের সেতুপথ অনেকটাই রুদ্ধ। যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে ভাই গ্রুপ ও আঞ্চলিকতাকে অগ্রাধিকার দেয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন অনেকেই।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ছাত্রদলের সাবেক একজন সভাপতি বলেন, ছাত্রদলের বর্তমানে ৩৯০ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি রয়েছে। তারা যদি এক সঙ্গে রাজপথে নামতেন তাহলে অবশ্যই আন্দোলনে বড় আলোড়ন সৃষ্টি হতো। খালেদা জিয়ার মুক্তি থেকে সরকার পতন কর্মসূচিতে সেই ভূমিকা দেখা যায়নি। যার মূল কারণ ছাত্রদলের অযোগ্যতা। কমিটি হয়েছে ভাই ও আঞ্চলিকতার। তাই এখনি সময় আগামীর সতর্কতার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়-২০২২ সালের ১৭ এপ্রিল কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে সভাপতি ও সাইফ মাহমুদ জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাঁচ নেতার নাম ঘোষণা করা হয়। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বরে ৩০২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

২০২৩ সালের ৮ আগস্ট আন্দোলনে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে শ্রাবণকে সরিয়ে রাশেদ ইকবাল খানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। তবে যে অভিযোগে শ্রাবণকে সরিয়ে দেয়া হয় আন্দোলন সময়ে অনেকটা তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

২৮ অক্টোবরের পর বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের শীর্ষ নেতারা যখন আত্মগোপনে চলে যায় তখন শ্রাবণকে দেখা যায় ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আন্দোলনের ভূমিকাতে। যেই ভূমিকা ছাত্রদলের শীর্ষ পদের নেতাদের দেখা যায়নি। নেতৃত্বের দুর্বলতা বাধাগুলো কাটিয়ে উঠতে সাংগঠনিক ফোরামে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনে চলছে।

রাজপথের ভূমিকা ও ত্যাগীদের মধ্যে আলোচিত সাংগঠনিক দক্ষতা, দলের জন্য ত্যাগ এবং ২৮ অক্টোবরের আগে পরে রাজনৈতিক ভূমিকার উপযুক্ত সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা রাজপথের অগ্রভাগে ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন দলটির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাঁরা হলেন..

সহ-সভাপতি : তানজিল হাসান, মো: ঝলক মিয়া, মুতাসিম বিল্লাহ, নাসির উদ্দীন নাসির, মাহবুব মিয়া, নিজাম উদ্দিন রিপন, আকতার হোসেন, মারুফ এলাহী রনি, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক : রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাংগঠনিক সম্পাদক : আবু আফসান ইয়াহইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক : জহির রায়হান, আবু জাফর, সোহেল রানা, আবু সুফিয়ান, মশিউর মামুন, সাফি ইসলাম, মঞ্জুরুল রিয়াদ, আমানুল্লাহ আমান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক : জি এম ফখরুল হাসান, সহ-সাধারন সম্পাদক : কবির হোসেন ফকিরসহ অনেকেই।

জনপ্রিয়/এসএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *